দ্বায়িত্বের ভালোবাসা।
ও এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
কাল নাকি তাকে দেখতে আসবে, অনেক দিন ধরে আলাপ চলছে।
দেখে বড্ড মায়া লেগে গেলো, বেচারি কয়েক দিন ধরে নাওয়াখাওয়া একদম বন্ধ করে দিল।
আমি মাত্র লঞ্চে থেকে নামলাম, পরীক্ষা আর পড়াশোনার চাপে ছিলাম তাই ঠিকমতো যোগাযোগই করিনি আজ প্রায় ১৫ দিন।
আহ্ কি করছো ছাড় না, লোকে দেখছে তো! কি বলবে লোকে।
আস্তে করে ছাড়িয়ে নিলাম, তারপর দু'হাতে ওর গালে হাত দিয়ে চোখে চোখ রাখলাম।
কি হয়েছে তোমার এতো কাঁদছো কেন, দেখতে ইতো আসছে, একেবারে বিয়ে তো আর হয়ে যাচ্ছে না।
ধমকের সুরে, একদম চোখের জলে, নাকের জলে আমার সার্টাই নষ্ট করে দিলে।
আবার জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।
আহা কেঁদে কি হবে বলো তো?
আচ্ছা চলো এখনি তোমার বাবার সাথে কথা বলি, মনে হচ্ছে এবারে চাকরিটা হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা নেই।
ও নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে, চোখ মুখ মুছতে মুছতে বললো।
আচ্ছা তুমি যে নিশ্চিন্তে ছিলে এতো দিন, তোমার একটুও খারাপ লাগেনি, আমার কথা কি তোমার একটুও মনে পড়েনি!!
সত্যি করে বলতো, তুমি আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসতো!?
হুমম নিঃসন্দেহে ভালোবাসি।
কেমন ভালোবাসো তুমি? একটুও আক্ষেপ দেখিনি তোমার মাঝে কোনোদিন!
ভালোবাসা হয় দুই ধরনের।
এক তো অনুভূতির, আরেক টা দ্বায়িত্ব বোধ।
দ্বায়িত্বের চাপে আর অবহেলায়, অনুভূতির ভালোবাসা তো সেই কবেই হারিয়ে ফেলেছি।
_____চিরকুট
